ফুলবাড়ীর সুজাপুর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়  নেচে-গেয়ে শতবর্ষ উদযাপন

ফুলবাড়ীর সুজাপুর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়  নেচে-গেয়ে শতবর্ষ   উদযাপন

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সামেন যন্ত্রী দল। পেছনে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। তবে মনে সবাই তরুণ। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে উল্লাসে মেতেছেন তাঁরা। 
গতকাল শনিবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুজাপুর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন করা হয় এভাবেই। 

সুজাপুর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে মাঠে হয়েছিলেন কয়েক হাজার নানা বয়সী নারী ও পুরুষ। বাবা-ছেলে-মেয়ে, দাদা-দাদি-নাতনি, যুবক-বৃদ্ধ মিলেমিশে একাকার। তাঁরাও মেতেছিলেন বিদ্যালয়টির শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠানে। 
শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে সুজাপুর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বেলুন ও ফেষ্টুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি। উদ্বোধনী শেষে বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রধান অতিথি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ফুলবাড়ী পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে বিদ্যালয়ের মাঠে এসে শেষ হয়। সেখানে শতবর্ষপূর্তি প্রীতিসম্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান বাবুল। উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মানিক রতনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শোয়েব বাবুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইমাম চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবু বক্কর, সচিব প্রফেসর মো. আমিনুল হক সরকার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন, পার্বতীপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম রসুল মন্টু, উপাধ্যক্ষ শাহ মো. আব্দুল কুদ্দুস, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মো. কামরুজ্জামান শাহ কামরু, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর রহমান, আমেরিকা প্রবাসী প্রাক্তন ছাত্র প্রকৌশলী মো. মোশাররফ হোসেন বাবুল, বর্তমান প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চক্রবর্তী প্রমুখ। তাঁরা শৈশব-কৈশোরের নানা স্মৃতিচারণ করেন। 
বিকেল তিনটায় একই মঞ্চে শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে গুণীজন ও কৃতিশিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। 
সংবর্ধিত গুণজন ও প্রাক্তন কৃতিশিক্ষার্থীরা হলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শোয়েব বাবুল প্রমুখ।
শেষে বিকেল চারটায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তারকা কন্ঠশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস মনমাতানো সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। 
শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান বাবুল বলেন, চলতি বছরেই বিদ্যালয়টির শতবর্ষপূর্তি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সকলেরই প্রাণের দাবী ছিল বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের। সেই দাবীও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র সার্বিক সহযোগিতায় পূর্ণ হয়েছে। এ কারণে এ বছরেই শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন করা হলো। #  

আরও পড়ুন

×