ফুলবাড়ীতে গোবর ফেলার গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ।

ফুলবাড়ীতে গোবর ফেলার  গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ।

ফুলবাড়ীতে গোবর ফেলার  গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু  বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থল সংলগ্ন স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে  দিয়েছেন সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোন ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা প্রধান শিক্ষিকার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গোবর ফেলার গর্তের পানিতে ডুবে রাফিন (৪) ও প্রবণ খন্দকার (৪) নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্য হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিহত রাফিন ওই এলাকার রায়হান খন্দকারের ছেলে ও প্রবণ একই এলাকার খন্দকার শিপনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সকালে সাইকেলের টায়ার ও রিং নিয়ে খেলতে বের হয় ওই দুই শিশু। দীর্ঘসময় থেকে তাদের দেখা না পাওয়ায় পরিবারেরর লোকজন খোঁজাখোঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে গোবর ফেলার একটি গর্তে ওই দুই শিশুর হাত দেখতে দেখতে পেয়ে এক বৃদ্ধা চিৎকার শুরু করেন।

চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী আলমগীর, রবিউল ইসলাম, নিরব সরকার, সাহরিদ নাজিদ সৌরভ, আশরাফুল ইসলাম ও শাহিনুর আলম অভিযোগ করে বলেন, শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশদিয়ে পানি বের হয়ে যেতো, কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন
নির্মানের কারণে পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই দুটি শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে। ইতোপূবে ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব ও বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা কাওছার জাহানকে জলাবদ্ধতা নিরাসনে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী বারংবার বলার পরেও কেউই এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি।

শুধুমাত্র তাদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশু দুটির প্রাণ ঝড়ে গেলো। এ কারণে যতদিন পর্যন্ত সমস্যটি সমাধান করা হবে না, ততদিন পর্যন্ত এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদের এবং ওই বিদ্যালয়ের কোন কার্যক্রম করতে দিবে না। এ কারণেই বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ওই দুই প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাওছার জাহান বলেন, বৃষ্টি হলেই বিদ্যায়লে এক হাটু পানি জমে। বিদ্যালয়ের পাশদিয়ে কোনপ্রকার পানি বের হওয়ার রাস্তা ছিলো না। এলাকাবাসীর এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট। বিদ্যালয়ের পিছনে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও হুমকির মুখে রয়েছে। যতদিন এ সমস্যার কোন সমাধান হবে না ততদিন বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষকই ক্লাস নিবেন না। শিক্ষার্থীরা আসলেও ক্লাস নেওয়া হবে না। বিদ্যালয়টি এলাকাবাসীর কাছে একটি আপদ মনে হয়। দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়কে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে স্থানীয় একটি মহল। তাদের বিদ্যালয় প্রয়োজন নেই, তাদের প্রয়োজন আছে দোকান-পাট ও হাট-বাজার। 

ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, দুটি শিশুর মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদে এবং স্কুলে তালা ঝলিয়ে দিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকায় জলাবদ্ধতার ঘটনাটি তার জানা ছিলো না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়ের পাশদিয়ে কোন ড্রেন বা পানি বের হওয়ার রাস্তা ছিলো না। থানা অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) ফখরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পরে
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনুগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যেকারণে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি সমাধানের জন ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×