প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হাওয়া পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে 

প্রকাশিত: 27/10/2020

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হাওয়া পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে 

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততোই হিসাবও পাল্টে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের জরিপেও পরিবর্তন ঘটছে। জর্জিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডায় বাইডেনের কাছাকাছি এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

পেনসিলভেনিয়ায় নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ঘনঘন সমাবেশ করছেন ট্রাম্প। মিশিগানেও ট্রাম্পের অবস্থান ক্রমান্বয়ে দৃঢ় হচ্ছে। সোমবার প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে। 

জরিপকারি সংস্থাগুলো এখন আগাম ভোটের গতি-প্রকৃতি নজরে রেখেছে। কারণ, ২০১৬ সালের নির্বাচনে যত আগাম ভোট পড়েছিল তার চেয়ে ১৩৩% বেশী ভোট পড়েছে সোমবার পর্যন্ত। এ সংখ্যা ৬ কোটি ২৭ লাখ ভোট জমা হয়েছে ডাকযোগে এবং আগাম ভোট কেন্দ্রে। অথচ এখনও নির্বাচনের বাকি ৭ দিন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতংকে প্রায় সকলেই আগাম ভোটকে নিরাপদ ভাবছেন। 

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট এবং আগাম ভোটের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-কারচুপির জিকির তুললেও তিনি নিজে যেমন আগাম ভোট দিয়েছেন, একইভাবে ডেমক্র্যাটদের সাথে পাল্লা দিয়ে রিপাবলিকানরাও লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আগাম ভোট কেন্দ্রে যত মানুষ এসেছিলেন, সে সংখ্যা ২০১৬ সালের মোট সংখ্যার সমান। এরপর অতিবাহিত হলো আরো চারদিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ লাইনে ভোট দিচ্ছেন ডেমক্র্যাটদের স্টেট নিউইয়র্কেও। অনেক আগে সিটিজেনশিপ নেয়া সত্বেও যারা আগে ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী ছিলেন না তেমন বাংলাদেশী তথা দক্ষিণ এশিয়ানদেরকেও শতশত ভোটারের লাইনে দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাসে। ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নানা পদক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে সকলেই বাইডেনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। 

বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসকে রানিংমেট করায় ডেমক্র্যাটদের প্রতি এশিয়ানরাও ঝোকে পড়েছেন বলে সকলের ধারণা। আগাম ভোটের এ ধারা ৩৮ স্টেটেই ১ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে ২০১৬ সালের মোট ভোট ১৩ কোটি ৯০ লাখকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে নির্বাচন-বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বাইডেনের কাছাকাছি উঠতে থাকায়। সোমবার পর্যন্ত টেক্সাসে বাইডেনকে ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগানেও কাছাকাছি এসেছেন ট্রাম্প। পেনসিলভেনিয়ায় বাইডেনের চেয়ে বেশী ভোট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। এরফলে গত নির্বাচনের মত এবারের চূড়ান্ত নির্বাচনের পর সকল হিসাব পাল্টে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা প্রকাশ করছেন। 

উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩টি স্যুইয়িং স্টেটেই বাইডেন এগিয়ে ছিলেন। করোনায় বিপর্যস্ত আমেরিকানদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ‘করোনা স্টিমুলাস বিল’ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ডেমক্র্যাটদের নানা বাহানায় অতিষ্ঠ স্বল্প আয়ের মানুষ আর ছোট ও মাঝারি তহবিলের ব্যবসায়ীরা। বেকার ভাতার পরিমাণ নিয়ে দর-কষাকষিতে ডেমক্র্যাটরা অনড় থাকায় এখন পর্যন্ত একটি পেনীও পেলেন না অসহায় মানুষেরা। 

উল্লেখ্য, গত মার্চে করোনা রিলিফ বিল অনুযায়ী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একেকজন ৬০০ ডলার করে পেয়েছেন ফেডারেল তহবিল থেকে। সাথে যোগ হয়েছে স্টেট থেকে দেয়া অর্থ। অর্থাৎ একেকজন কমপক্ষে ৮০০ ডলার করে পেয়েছেন প্রতি সপ্তাহে। কিন্তু ডেমক্র্যাটরা আগস্ট থেকে পুনরায় একইহারে বেকার ভাতার বিল পাশ করেন প্রতিনিধি পরিষদে। 

অপরদিকে, ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট চাচ্ছিল সপ্তাহে সর্বোচ্চ সাড়ে চারশত ডলার। প্রথমে তারা তিনশত ডলারের প্রস্তাব দেয়। এরপর ডেমক্র্যাটদের সাথে দর-কষাকষির এক পর্যায়ে সাড়ে চারশত ডলারে সম্মত হয়েছিলেন। ডেমক্র্যাটরা অনড় থাকায় সে আলোচনা ভেস্তে গেছে। এর দায় বর্তাচ্ছে ডেমক্র্যাটদের ওপর। নির্বাচনে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। 

গত নির্বাচনে নারী হিসেবে আমেরিকানদের অধিকাংশই (ডেমক্র্যাটসহ) হিলারি ক্লিন্টনকে পছন্দ করেননি। আর এবার স্প্যানিশ আর কিউবান কৃষ্ণাঙ্গদের বড় একটি অংশ বাইডেনকে পছন্দ করছেন না। ওবামার সাথে টানা ৮ বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকেও অবৈধ অভিবাসীদের জন্যে কার্যত: কিছুই করেননি বাইডেন-এ অভিযোগ ক্রমে চাঙ্গা হচ্ছে নির্বাচনের ময়দানে। 

সর্বশেষ বিতর্কে ট্রাম্পও একই ঘটনার অবতারণা করেছিলেন। যদিও করোনা মহামারিকে যথাযথভাবে মোকাবেলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প-এ বিষয়টি ভোটারের মধ্যে সদা জাগ্রত রয়েছে। 

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন হাউজের মত ইউএস সিনেটের কর্তৃত্ব এবার ডেমক্র্যাটদের কাছে যেতে পারে। এমন অবস্থা তৈরী হলে ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাহী আদেশ জারি কিংবা সুপ্রিম কোর্টের মুখাপেক্ষী হয়েই কাজ করতে হবে। সর্বশেষ এ্যামি কোনি ব্যারেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে শপথ নেয়ায় ট্রাম্পের অনুসারি বিচারকরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন। 

এদিকে, করোনার কারণে আগাম ভোটের পরিধি এবার প্রসার করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ইউনিভাসিটি অব ম্যারিল্যান্ড পরিচালিত জরিপে রেজিস্টার্ড ভোটারের ৬০% আগাম ভোটের পক্ষে কথা বলেছিলেন। 

একইসাথে, ইচ্ছা করলেই যে কেউ ডাকযোগেও ভোট দিতে পারছেন এবার। নিউ হ্যামশায়ার, উইসকনসিন, আরিজোনা, আইওয়া স্টেটও ডাকযোগে ভোটের প্রথা চালু করেছে এবার। এর ফলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণকারি স্টেটসমূহেও ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ৪ লাখ ভোট জমা হয়েছে।

এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদ্যমান সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ বিজেপি এবং আওয়ামী লীগের অনুসারি মার্কিন নাগরিকেরা ডেমক্র্যাট হলেও রিপাবলিকান ট্রাম্পকে ভোটদানের কথা ভাবছেন বলে একাধিক জরিপে উদঘাটিত হয়েছে। 

এক্ষেত্রে কমলা হ্যারিসের ব্যাপারটি গৌণ হয়ে পড়ছে। তবে এ সংখ্যা প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণে কোন প্রভাব রাখবে বলে কেউ মনে করছেন না। কারণ, ভোটের সংখ্যায় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকানরা একেবারেই নগন্য।

আরও পড়ুন

×