পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পোলট্রি খামারিরা

পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পোলট্রি খামারিরা

করোনাভাইরাস প্রভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ায় হাটবাজার, অফিস, দোকানপাটসহ যানবাহন বন্ধ হয়ে গেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কমছে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম। এতে করে চরম আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন পোলট্রি খামারী ও ব্যবসায়ীরা।
    ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২৫৫ টি পোলট্টি খামার রয়েছে। সব খামারই ছোট বা মাঝারি ধরনের। এসব খামারের মধ্যে ব্রয়লার, পাকিস্তানী (সোনারী) জাতের খামার ২৫০ টি এবং লেয়ার মুরগি খামার ৫ টি রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার বেশ কয়েকটি পোলট্রি খামার সরেজমিন ঘুরে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস বিস্তারের আগে বিরামপুরে পোলট্রি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কেজিতে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে।
উপজেলার পুখুরীহাট এলাকার খামারি মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে খরচ হয় ৮০ থেকে ৮৫ টাকার ওপরে। এখন সেই মুরগি বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এ সপ্তাহে তিনি প্রায় প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে আরো তাকে আরও বেশি লোকসানে মুরগি বিক্রি করতে হবে।
ফকিরপাড়া গ্রামের খামারি সোহেল রানা বলেন, মুরগির দাম কমলেও খামারের দাম বেড়েছে। এ যে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
অ¤্রবাড়ী গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রয়লার মুরগিতে দুর্গতি দেখে তিনি পাকিস্তানি মুরগির খামার করেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে সেই মুরগিরও একই অবস্থা। বাজারে ক্রেতা নেই। কেউ মুরগি কিনতে চাচ্ছেন না। খামারেও মুরগি বেশি রাখা যাচ্ছে না।
রাজবংশীপাড়া গ্রামের খামারি জীবন প্রসাদ বলেন, প্রতিটি ডিম উৎপাদন খরচ পড়ে ৫ টাকার ওপরে। সেই ডিম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা দরে। ফুলবাড়ীতে লেয়ার মুরগির ১০-১২ জন খামারি আছেন। লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। 
চকচকা গ্রামের খামারি মোজাফ্ফর হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম ও মোতালেব হোসেন বলেন, বর্তমানে হোটেল, রেস্তোরাঁ, রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ। এ সময়টা বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুম। এসব অনুষ্ঠানে ব্রয়লার মুরগির বেশ চাহিদা থাকে। করোনাভাইরাসের কারণে এসব অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের ধাক্কায় পড়েছেন খামারিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খামারি বলেন, তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। করোনার প্রভাবে লোকসান গুনতে গুনতে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে ঋণ-কর্জ করে মুরগির ওষুধ ও খাদ্য নিতে হচ্ছে। 
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব বলেন, উপজেলায় ২৫৫ টি খামারি রয়েছে। প্রায় খামারই ছোট এবং মাঝারি। করোনাভাইরাস প্রভাবের কারণে খামারিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রæত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
 

আরও পড়ুন

×